সত্যের সন্ধানে সবসময়
পোর্টাল: www.vatirdarpan.com | প্রিন্টের সময়: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
প্রতিশ্রুতি দিয়েও রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার মিয়ানমারের
বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নিজেদের নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় আবারও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।
মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আয়োজনের মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
বিবৃতিতে মিয়ানমার জানায়, বাংলাদেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করে, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এমন একটি জাতিগত পরিচয়কে বোঝায়, যার কোনো অস্তিত্ব মিয়ানমারে কখনো ছিল না। এছাড়া ৩ সেপ্টেম্বর কয়েকটি দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এরও নিন্দা জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন ঘিরে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল যে মিয়ানমার ৫ হাজার নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে, যার প্রথম দফায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠানো হবে।
তবে তাদের মধ্যে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা আছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০১৭ সালে সেনা অভিযানের পর ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন, যার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সরকার কোনো স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না এবং তাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর বলে দাবি করে আসছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩ সেপ্টেম্বর নিজেদের পুরনো অবস্থান বজায় রেখে বলে, ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়টি মিয়ানমারে কখনো বিদ্যমান ছিল না, এটি একটি মিথ্যা দাবি।
অপরদিকে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছেন, "কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, যেখানে তার ওপর নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে বা তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।"
তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই। ২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানান, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে’ দেশে ফেরার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বর্তমানে মিয়ানমারে বিদ্যমান নেই। মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা অনেক অভিবাসীর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা স্বাধীনভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই মিয়ানমারের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্বেগ আরও বাড়াল।
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার বাড়াতে আমাদের বিজ্ঞাপন পেজে আসুন
পাঠকদের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যIn praise of Mymensingh’s Bangla folk ballads
১৩ এপ্রিল, ২০২২Fizz takes three in Mumbai rout
০৮ মে, ২০১৬André Béteille: A sociologist Bangladesh should read
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬Doha diary: A historian amid the Iran war
১৫ মার্চ, ২০২৬India’s top-heavy boom and the lesson for Bangladesh
০৪ মে, ২০২৬Ramisa rape and murder: Sohel Rana mentions new name as charges framed
০১ জুন, ২০২৬ফটো কার্ড স্টাইল নির্বাচন করুন
সংবাদের ছবি দিয়ে কিভাবে ফটো কার্ডটি ডাউনলোড করতে চান অপশন সিলেক্ট করুন
ভাটির দর্পন
সত্যের সন্ধানে সবসময়
প্রতিশ্রুতি দিয়েও রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার মিয়ানমারের
ভাটির দর্পন
সত্যের সন্ধানে সবসময়